বিজ্ঞপ্তি:
জাগো বাঙ্গালী টোয়েন্টিফোর ডট কমে আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
মেয়াদ উত্তীর্ন বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন বেনাপোল নামাজগ্রামে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বেনাপোল পুলিশের পক্ষথেকে “নারী ধর্ষন ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ বেনাপোল পুলিশের জালে ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার-১ মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মেসার্স রেহেনা ট্রেডার্স এর পক্ষ থেকে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির মরণোত্তর চেক প্রদান চাঁদপুর ৫নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া মেয়াদ উত্তীর্ণ বেনাপোল পৌরসভার নিবার্চনের দাবীতে মতবিনিময় সভা বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে ৪৯ বিজিবি সদস্যরা বেনাপোলে ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার -২
বেনাপোল বন্দর বন্ধ থাকায় বর্ডারে এখন ভূতুরে নীরবতা   

বেনাপোল বন্দর বন্ধ থাকায় বর্ডারে এখন ভূতুরে নীরবতা   

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক বর্ডার এলাকার সিএন্ডএফ কার্গো শাখা, পরিবহন আবাসিক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ ও স্টোর নামীয় দোকানগুলো বন্ধ। রাস্তাঘাট সহ আশপাশে  ফাঁকা। বাস, ইজিবাইক, রিকশা ভ্যান নেই বা অন্য যানবাহন নেই চেকপোষ্টের স্ট্যান্ডে। মালপত্র বহন করা শ্রমিকদের নেই কোনো হাকডাক। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্র ও আর্ন্তজাতিক চেকপোস্ট প্যাসেজ্ঞার টার্মিনালের সামনে যাত্রীদের লম্বা লাইনও নেই। বেনাপোল এখন জনশূন্য। খাঁ খাঁ করছে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট এলাকা। সর্বত্র নীরব সুনসান। এ যেন অচেনা এক চেকপোস্ট। স্বাধীনতার পর থেকে দু‘দেশের মধ্যে এক ঘণ্টার জন্যও পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত বন্ধ হয়নি। এমন একটি ভাইরাস রোগে (করোনা) সারা পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে বেনাপোল আন্তর্জাতিক বর্ডারকে।
মরণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ বিকেল থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টযাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভিসা স্থগিতের পর ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস ও খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে। এরপর ২২ মার্চ ভারতে জনতার কারফিউ জারি করা হয়। ২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন করা হয় গোটা ভারত বর্ষে। পেট্রাপোল বন্দর এলাকা দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ২৭ মার্চ রাত থেকে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের জারি করা ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত  সাধারন ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে পাসপোর্টযাত্রীও চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ছুটির সময় সীমা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে কাউকে ভারতে ও ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণে যে সব বাংলাদেশিরা ভারতে অবস্থান করছিলেন তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। তবে দুই দেশের মধ্যে বিমান, বাস ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কষ্ট করে ফিরতে হয়েছে নিজ নিজ এলাকায়। দেশে ফেরার সময় যাত্রীদের দুই দেশের ইমিগ্রেশনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেশে আসতে হয়।
বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুয়াকাটা, বাগেরহাট, ফরিদপুর, গোপালগজ্ঞ, খুলনা পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য বন্দরে রয়েছে কয়েকটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার বাস। সেই ব্যবসা থমকে গিয়েছে। পাসপোর্টযাত্রীর ওপর নির্ভরশীল এসব বাস সার্ভিস। যেহেতু যাত্রী যাতায়াত বন্ধ সে কারণে বাসও বন্ধ।
যাত্রীদের মালপত্র বহন করতে বন্দরের লেবাররা (কুলি) রয়েছে খুব কষ্টে। যাত্রীদের অভাবে তাদেরও কোনো কাজ নেই। এক শ্রমিকের কথায়, ‘কী ভাবে পেট চলবে জানি না। আর ক‘দিন বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে’।
বেনাপোল  বর্ডার চেকপোস্ট থেকে বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে চলাচলকারী ইজিবাইকও (ব্যাটারিচালিত বাহন) বন্ধ। মোঃ রনি নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, লকডাউনের কারণে আমরা রাস্তায় নামতে পারছি না। রাস্তায় নেমেও লাভ নেই। কোনো যাত্রী চলাচল করছে না। চেকপোস্টের সাথে যুক্ত মানুষজন ভাইরাসের থেকেও রুজি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন।
বর্ডারের তুহিন স্টোরের মালিক কাজু তুহিন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা দোকান বন্ধ রেখেছি। জানি এতে আমরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ব। তারপরও আমরা চাই করোনাভাইরাস থেকে আল্লাহ যেন সবাইকে হেফাজত করেন। বেঁচে থাকলে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। তবে এই সঙ্কটময় সময়ে আমাদের পরিবারের দিকে স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারীযাত্রী দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এই পাসপোর্টযাত্রীদের চলাচলের সাথে হাজারো পরিবারের উপার্জন জড়িত। সবার আর্থিক বিষয়টি জড়িয়ে আছে এই চেকপোস্ট নিয়ে। চেকপোস্ট বন্ধে সবারই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল জানান, খেটে খাওয়া, দিনমজুরসহ যাদের আয় রোজগার বন্ধ তাদের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যদি কেউ না পেয়ে থাকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল জানান, খেটে খাওয়া, দিনমজুরসহ যাদের আয় রোজগার বন্ধ তাদের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যদি কেউ না পেয়ে থাকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার আজিম উদ্দীন বলেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, স্থলবন্দরের দুটি পণ্য প্রবেশদ্বার ও রেল স্টেশনে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ ভারত ফেরত দেশ, বিদেশি যাত্রী ও পণ্য বাহী ট্রাক চালককে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এরা সবাই ছিল করোনা ঝুঁকিমুক্ত।

লিডনিউজ

Comments are closed.




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Developed BY: AMS IT BD