বিজ্ঞপ্তি:
জাগো বাঙ্গালী টোয়েন্টিফোর ডট কমে আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তায় বাহিরে আছে, আপনারা ঘরে থাকুন: বেনাপোল পোর্ট থানা (ওসি) মামুন খান শার্শার পুটখালী ৮টি গ্রামে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বকুল সাংবাদিকের উদ্যোগে অসহায়-দুস্থদের মাঝে ত্রান বিতরণ বেনাপোল সাদিপুরে ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক মিরপুরে লকডাউন করা হয়েছে আরও দুটি ভবন । ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল সাধারণ ছুটির মেয়াদ র‌্যাবের নতুন ডিজি আবদুল্লাহ আল মামুন করোনাভাইরাসে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ৯৪, আক্রান্ত ৪২৪ বেনাপোলে কাস্টম কর্তৃক ত্রান সামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রক্তাক্ত জখম। যতটুকু সাধ্য আছে সে অনুযায়ী কর্মহীন ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি ——শেখ আফিল উদ্দিন এমপি দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সমাজের সকল বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান —–শেখ আফিল উদ্দিন এমপির
সিউডোসায়েসিস বা ‘ফলস প্রেগনেন্সি’, অতঃপর!

সিউডোসায়েসিস বা ‘ফলস প্রেগনেন্সি’, অতঃপর!

ফারহানা মোবিন , লেখক এবং চিকিৎসক:-
‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ বাক্যটি টেনে টেনে সুর করে বলতে থাকে অপরিণত বয়স্ক কিশোরী মা তিথি। ছোট্ট আঁচলে বারবার আগলে ধরে আদরের ধনটিকে। বুকভরা মমতায় সন্তানটি আাঁচলের তলে মুখ লুকায়। প্রতিবেশী নীলা রহমান (ছদ্মনাম) বারান্দার গ্রিল দিয়ে তিথির সন্তানটিকে দেখে। ঐশ্বর্যের তীব্রতা সত্ত্বেও নীলার গৃহ শূন্য মরুভূমি। একটিবার ‘মা’ ডাকের অভাব তাকে ব্যাকুল করে দেয়। প্রতিবেশী তিথির ভাঙা গৃহকেই নবজাতকটির জন্য আকাশের রঙধনু মনে হয়। একদিন নীলা গর্ভে অনুভব করেন প্রাণের অস্তিত্ব। বিয়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর মা হওয়ার ঘটনা তাকে আনন্দে আত্মহারা করে তোলে। কিন্তু গর্ভধারণের তিন মাস পরেই জানা যায়, আদৌ ছিল না কোনো গর্ভধারণ। তবে কেন নীলা ভ্রুণের অনুভব করলেন! এত বড় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো ভুল হতে পারে না। তবে কেন এমন হলো? পরিস্থিতির শিকার হন অনেক নারী। যার জন্য নীরবে, নিভৃতে সহ্য করতে হয় হাজারো কষ্ট। এটি এক ধরনের স্ত্রীরোগ। এর নাম সিউডোসায়েসিস বা স্পুরিয়াস প্রেগনেন্সি বা ফলস প্রেগনেন্সি অর্থাৎ মিথ্যে গর্ভধারণ। চলুন শুনি কয়েকজনের কথা।

কেস স্টাডি-১:
ঢাকা মোহাম্মদপুর নিবাসী সালমা হক (ছদ্মনাম)। বিয়ে হয়েছে সাত বছর আগে। স্বামী ইংল্যান্ডে থাকেন। বিত্তের অভাব নেই। শ্বশুর- শাশুড়ি, ননদ, দেবর সবাই চাকরি করেন। সালমার সারাটা দিন কাটে রান্নাঘর, গৃহপরিচারিকা আর খাঁচার ময়না পাখিটার সঙ্গে কথা বলে। আশপাশের ফ্ল্যাট থেকে ছোট্ট বাচ্চারা তার সঙ্গে খেলতে আসে। কলেজ জীবনের বন্ধু হাসান আহমেদও প্রায় আসে, তবু যেন দিন কাটে না। একটা ছোট্ট সন্তানের হাহাকার তাকে কাতর করে তোলে। স্বামী দূরে থাকলেও নিত্য যোগাযোগ করে। তবু দিনকে দিন হতাশা যেন ঝাপটে ধরে। স্বামী সজীব হকের ছবি নিয়েই কামনা করেন যদি তার চেহারার মতো ফুটফুটে একি শিশু থাকত। হঠাৎ একদিন সালমা উপলব্ধি করেন, তিনি মা হতে চলেছেন। সজীব পাঁচ মাস আগে দেশে এসেছিলেন। এতদিন পরে কীভাবে গর্ভধারণ সম্ভব? দীর্ঘ বছর পরে গর্ভধারণের খবরটি জানতে পেরে পাঁচ মাসের বিলম্বে কেউ গুরুত্বই দেয় না। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে বয়ে যায় খুশির বন্যা। দিনে দিনে শরীর খুব খারাপ হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে, বমি বমি ভাব, দুই পা ফুলে যায়। মাসি ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। শ্বশুর অর্ডার দিয়ে নকশাখচিত ব্যয়বহুল দোলনা নিয়ে আসেন। অধিক আনন্দে চোখের নিমিষেই কেটে যায় একটি মাস। অতঃপর চিকিৎসার পরীক্ষায় জানা যায়, এটি গর্ভধারণ নয়, এক ধরনের ব্যাধি। দৈহিক হরমোনজনিত পরিবর্তনের জন্য এমন হয়। কিন্তু কেউ চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করে না। সবার ধারণা, সালমা ও বন্ধু হাসানের অবৈধতার ফসল ছিল সেটি। হয়তো ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে এক মাসের মধ্যেই গোপনে গর্ভপাত করেছে। শাশুড়ির ধারণা, সারাদিন বাড়ি ফাঁকা থাকে, বউমার কোনো বন্ধু আসে, বউমা তার ঘরের দরজা সবসময় বন্ধ রাখে, না জানি কী করেছে! উচ্চশিক্ষিত শাশুড়ির এমন নিকৃষ্ট মনমানসিকতায় সালমা হতবাক হয়ে যান।

লিডনিউজ

Comments are closed.




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Developed BY: AMS IT BD